২০৩০: চন্দ্র পাগল আর সেই কালো স্ক্রিন (Faceless Web)

২০৩০: চন্দ্র পাগল আর সেই কালো স্ক্রিন (Faceless Web)

সাল ২০৩০। 

রাত ১০টা।

চন্দ্র পাগল জানালার পাশে বসে আছে। বাইরে হালকা বৃষ্টি পড়ছে। রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। শহর ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। হঠাৎ তার মনে হলো— “নুডলস খাওয়া যায়।”

সে তার ফোনটা হাতে নিল। ফোনটা জ্বলে উঠল। কিন্তু সেখানে কোনো অ্যাপ নেই। কোনো আইকন নেই। কোনো মেনু নেই। শুধু একটা কালো স্ক্রিন। মাঝখানে ছোট একটা লেখা— “বলুন, কী করতে চান?”

চন্দ্র পাগল একটু হাসল। তারপর বলল, “আমার নুডলস খেতে ইচ্ছা করছে।” কয়েক সেকেন্ড পর তার এজেন্ট জিজ্ঞেস করল— “কেমন নুডলস চান?” চন্দ্র পাগল বলল, “চিকেন আর ভেজিটেবল। বাজেট ২০০ টাকা। ৩০ মিনিটের মধ্যে লাগবে।”

“ঠিক আছে। আমি খুঁজছি।” চন্দ্র পাগল ফোনটা টেবিলে রেখে দিল।


ওদিকে শহরের অন্য প্রান্তে একটা ছোট রেস্টুরেন্ট এ একজন বাবুর্চি রান্না করছে। কাউন্টারে বসা মানুষটা হিসাব করছে দিনের বিক্রির। আর তাদের রেস্টুরেন্ট এর ফোন এর এজেন্ট তখন চন্দ্রপাগল এর এজেন্ট এর সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। তার মালিকের সাথে কথা বলারও দরকার পরেনি। তাকে আগে থেকেই সব রুল বলা আছে। আর সে প্রিতিনিয়ত  জানছে কি আছে কি নেই। কি হবে আর কি হবে না। জাস্ট একজন  ব্যাপক অভিজ্ঞ সেলস  পারসন এর মত।

চন্দ্র পাগলের এজেন্ট বলেছে— “আপনাদের কাছে কি চিকেন-ভেজিটেবল নুডলস আছে?” 

রেস্টুরেন্টের এজেন্ট উত্তর দিল— “আছে।”

“৩০ মিনিটের মধ্যে দেওয়া যাবে?”

“সম্ভব।”

“দাম?”

“১৮০ টাকা।”

আরেক পাশে আরেকটা রেস্টুরেন্টের এজেন্ট বলল—

“আমাদের কাছেও আছে, কিন্তু ডেলিভারি টাইম ৪৫ মিনিট।”

তৃতীয় একটা এজেন্ট বলল— “আজ আমাদের স্পেশাল অফার চলছে।”

কিছুক্ষণ পর চন্দ্র পাগলের ফোনে একটা ছোট শব্দ হলো।

“আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন পেয়েছি।”

“কোনটা?”

“একটি রেস্টুরেন্ট ২৫ মিনিটে ডেলিভারি দিতে পারবে। দাম ১৮০ টাকা। আপনার আগের পছন্দের সাথে মিল আছে।”

চন্দ্র পাগল বলল,

“ঠিক আছে।”

অর্ডার হয়ে গেল।


এখন নতুন সমস্যা। খাবার তৈরি হবে। কিন্তু পৌঁছাবে কে? চন্দ্র পাগলের এজেন্ট আবার কাজ শুরু করল। সে কাছাকাছি থাকা রাইডারদের এজেন্ট- এর সাথে যোগাযোগ করল।

একজন বলল—

“আমার মালিক এখন ওই এলাকার কাছেই আছে।”

আরেকজন বলল—

“আমার মালিকের অন্য ডেলিভারি আছে, সময় লাগবে।”

একজনের এজেন্ট বলল—

“আমরা নিতে পারব।”

কিছুক্ষণ পর সেই রাইডারের ফোনে একটা ছোট্ট নটিফিকেশন এলো।

তার এজেন্ট বলল—

“আপনার জন্য নতুন ডেলিভারি এসেছে।”

রাইডার শুধু বলল,

“ঠিক আছে।”


৩০ মিনিট পর। চন্দ্র পাগল আবার জানালার পাশে বসে আছে। হঠাৎ ফোনে শব্দ হলো।

তার এজেন্ট বলল—

“আপনার খাবার নিচে পৌঁছে গেছে।”

চন্দ্র পাগল নিচে গেল। রাইডার খাবার দিল। সে খাবার নিয়ে আবার ঘরে ফিরে এলো।

তারপর এক মুহূর্ত থেমে ভাবল— এই পুরো ঘটনায় সে কোনো অ্যাপ খুলেনি। কোনো ওয়েবসাইটে যায়নি। কোনো সার্চ করেনি। কোনো রেস্টুরেন্ট দেখেনি। কোনো ম্যাপ খুলেনি। শুধু একটা কথা বলেছিল।

চন্দ্র পাগল খাবারের প্যাকেট খুলতে খুলতে জানালার বাইরে তাকাল। একসময় মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে কম্পিউটারের সামনে বসত। তারপর ফোন হাতে নিয়ে অ্যাপের ভেতর ঢুকল। আর এখন? মানুষ শুধু কথা বলে। ইন্টারনেট তার হয়ে কাজ করে। ইন্টারনেট যে কখন দেখতে দেখতে  ফেসলেস  হয়ে গেল তা আসলে টের পাওয়া গেল না। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে নুদলসে মনোযোগ দিল।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *